বর্ষাকালে চুলের নানান সমস্যা

বৃষ্টির ঋতুতে চুলের প্রধান সমস্যাগুলো হচ্ছে চুল নির্জীব হয়ে পড়া, কোঁকড়া হয়ে যাওয়া, খুশকি বেড়ে যাওয়া ও চুল পড়া। এ আবহাওয়াতে কোঁকড়া চুল আরো বেশি কুঁকড়ে গিয়ে অগোছালো হয়ে পড়ে এবং সোজা চুল হয়ে যায় নির্জীব ও নিষ্প্রভ। আর্দ্রতার কারণে ছত্রাক জনিত সংক্রমণ সৃষ্টি হয় যা সবসময় খুশকির জন্ম দেয়। এবং এসব সমস্যার ফলে মারাত্মকহারে চুল পড়ে। তাহলে চুল সুস্থ ও সুন্দর  রাখার জন্য কীভাবে আপনি চুলের যত্ন নিবেন? এখানের টিপসগুলো অনুসরণ করে আপনার চুলের সমস্যাগুলোকে বিদায় জানান। প্রথমে শুরু করা যাক কী খাবার গ্রহণ করা উচিৎ তা দিয়েঃ প্রচুর পানি পান করুন, প্রতিদিন অন্তত ২ লিটার। প্রচুর প্রোটিন, তাজা ফল ও শাকসবজি খান। টমেটো, লিচু, লেবু ও নাশপাতিতে লাইকোপিন ও ভিটামিন সি আছে যা চুলের জন্যা উপকারী। খাদ্যে প্রোটিন এর পরিমানকে দ্বিগুণ করার জন্য দুধ ও সয়া প্রোটিন গ্রহণ করুন। ভিটামিন এ, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন বি, ভিটামিন সি এবং জিংক প্রভৃতি খাদ্যের পরিপূরক গ্রহণ করুন। তেলযুক্ত ও মসলাদার খাবার সম্পূর্ণরূপে এড়িয়ে চলুন। চুলকানিযুক্ত সাদা স্তর-খুশকি কিটোকোনাজোল, পাইরিথিওন জিংক, সেলেনিয়াম অথবা চা গাছের তেল সমৃদ্ধ একটি ভালো মানের খুশকি নাশক শ্যাম্পু বেছে নিন, মাথায় লাগিয়ে অন্তত ১০ মিনিট রাখুন এবং তারপর ধুয়ে নিন। এই অনুচ্ছেদের লেখক খুশকি ও তার যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে ‘ব্রাইলক্রীম গ্রীণ’ ব্যবহার করে অনেক উপকার পেয়েছেন। খুশকি দূর করতে নিঃসন্দেহে সহায়ক এমন ভেষজ উপাদানগুলো হচ্ছেঃ ● অ্যালিসিন- পেষা আদা-তে পাওয়া যায় ● সাইট্রোনেলা তেল- লেমন গ্রাসে (একধরণের উদ্ভিদ) পাওয়া যায় ● নিম বীজের তেল ● কমলার তেল ● চা গাছের তেল (টী ট্রি অয়েল) ● লেবুর রস ● এবং চিরচেনা নারিকেল তেল   চুলের ঘনত্ব নিয়ে সমস্যা - নিস্তেজ, অবসন্ন চুলের জন্য সমাধানঃ ভিজা অবস্থায় চুল বাঁধবেন না। আড়ম্বরপূর্ণ চুল সাজানো থেকে বিরত থাকুন। সাইট্রেট ফ্রুটের নির্যাস সমৃদ্ধ শ্যাম্পু ও অ্যারোমেটিক তেল সমৃদ্ধ কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। রোজমেরি একটি ভালো ভেষজ উপাদান, আপনার শ্যাম্পুতে তা আছে কী না দেখুন। মাথার ত্বক খুব বেশি তৈলাক্ত হলে তাতে লেবুর রস দিন। ১৫ মিনিট পরে ধুয়ে ফেলুন। এই আবহাওয়াতে চুল পাখির বাসার মতো অগোছালো হলেঃ... নারিকেল তেল ব্যবহার করুন। তেল ব্যবহার সম্পর্কে প্রচুর বিতর্ক থাকলেও, আমরা তেল ব্যবহারকে স্বাগত জানাই। চুলকে সুস্থিত ও কোমল করার জন্য শ্যাম্পু করার পূর্বে ২-৪ ঘন্টা চুলে তেল লাগান। যদি চুল কোঁকড়া ও নিয়ন্ত্রণের অসাধ্য হয়, তাহলে ভালো মানের কন্ডিশনার ও মিউস (হেয়ার ক্রীম) ব্যবহার করতে পারেন। কোঁকড়া চুলের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হচ্ছে চুল খুব বেশি পরিমাণে না আঁচড়ানো, বিশেষ করে মিউস (হেয়ার ক্রীম) ব্যবহারের পর। উচ্চ প্রোটিন সমৃদ্ধ কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। ২ টি কলা, দই ও কয়েক ফোঁটা অলিভ ওয়েল মিশ্রিত করে হেয়ার প্যাক তৈরি করুন। উপাদানগুলো ব্লেন্ডারে নিয়ে ব্লেন্ড করে মিশিয়ে নিন এবং চুলে লাগান। কিছুক্ষণ রেখে পরে ধুয়ে নিন।   আপনার চমৎকার চুলগুলোকে কীভাবে আঁচড়াবেন? কখনোই ভেজা চুল আঁচড়াবেন না। শুধুমাত্র কিছুটা শুকনো কিংবা সম্পূর্ণ শুকনো চুল আঁচড়াবেন। বড় দাঁতের চিরুনি ব্যবহার করবেন, ব্রাশের কারণে চুল পড়ে ও আগা ভেঙ্গে যায়।   চুল কাটাতে চাইলে এখনই ভালো সময় খাটো চুল নিয়ন্ত্রণ করতে সুবিধা এবং শুকাতেও কম সময় নেয়। ভেজা চুলের কারণে বহুবিধ সমস্যার সৃষ্টি হয়। চুলকে নতুন রূপ দিন এবং জীবন সহজ করে তুলুন।   যে বিষয়গুলো মনে রাখতে হবেঃ ১. বর্ষাকালে চুলে রঙ বা নতুন সজ্জা করতে যাবেন না। এই ঋতুতে সৃষ্ট চুলের যেকোন ধরণের ক্ষতি স্থায়ী হয়ে যেতে পারে। ২. বৃষ্টিতে ভেজার পর সবসময় চুল শুকিয়ে নিন। বৃষ্টির পানিতে রাসায়নিক পদার্থ, দূষণকারী ও জীবাণু থাকতে পারে, যা চুলের জন্য ক্ষতিকারক। ৩. বেনী অথবা খোঁপা কিংবা হালকা ভাবে বাঁধা পনি টেইল ঢিলা রাখুন। খুব শক্ত করে চুল বাঁধবেন না। ৪. বর্ষাকালে অধিকাংশ দেশে সরবরাহকৃত পানিতে অতিরিক্ত ক্লোরিন মেশানো হয়, যার কারণে চুলের ক্ষতি হতে পারে। তা প্রতিরোধে চুল কম পরিমাণে ধুতে পারেন।