অ্যালার্জি

অ্যালার্জি কি? অ্যালার্জি আমাদের রোগ প্রতিরোধ করার ক্ষমতার এমন একটা প্রতিক্রিয়া যা বিভিন্ন নিরীহ পদার্থ যেমন pollens, খাদ্য, এবং ঘর ধুলো পোকামাকড় দিয়ে হয়ে থাকে। পদার্থ বিশেষ অ্যালার্জির লক্ষণ সমুহ ভিন্ন হয়ে থাকে এবং ইহা সাইনাস, নাকের ছিদ্র, গায়ের চামড়া এবং পাকপক্রিয়াকে প্রভাবিত করে থাকে। অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সাধারণ থেকে অনেক তিব্র ও হয়ে থাকে। কিছু তিব্র প্রতিক্রিয়া যা কিনা আনাফাইলাক্সিস নামে পরিচিত অনেক সময়ে জীবন এর হুমকি হয়ে যেতে পারে। সাধারনত আপনার অ্যালার্জি থেকে থাকলে যে বস্তুর অথবা পদার্থের আপনার অ্যালার্জি আছে তার সম্মুখিত হওয়ার কিছু মিনিটের মধ্যেই ইহা প্রকাশিত হবে যদিও কিছু কিছু ক্ষেত্রে ইহা প্রকাশ হতে ঘণ্টাখানেক সময় ও নিয়ে থাকে।   অ্যালার্জির সাধারন লক্ষণগুলো হলঃ •হাঁচি এবং চুলকানি, ক্ষরণপ্রবণ বা অবরুদ্ধ নাক (এলার্জিক রাইনাইটিস ) •লাল, জল প্রবাহিত চোখ এবং চোখ চুলকান (নেত্রবর্ত্মকলাপ্রদাহ ) •বুকে টান অনুভব,শ্বাসকষ্ট  এবং কাশি •শরীরে ফুলে উঠা, ফাটা, লাল ফুসকুড়ি ( আমবাত ) •ফোলা ঠোঁট, জিহ্বা, চোখ বা মুখ •ব্যথা পেট , অসুস্থবোধ, বমি  বা ডায়রিয়া •শুস্ক,লাল এবং কর্কশ চামড়া   অ্যানাফাইলাক্সিসের নিদর্শনসমূহের মধ্যে উপরের নির্দেশনসমুহের এর সাথে আরও রয়েছে: •ত্বকে চুলকানি এবং ফোলে উঠা , ত্বকে লাল লাল ছোপ •ফোলা চোখ, ঠোঁট, হাত ও পা •উদ্ভ্রান্ত বা অজ্ঞান বোধ •মুখ, গলা বা জিহ্বা ফুলে যেতে পাড়ে যার কারনে শ্বাস কষ্ট এবং কিছু গিলতে কষ্ট হতে পারে •নাকডাকা •পেটে ব্যথা, বমি ভাব এবং বমি •পড়ে যাওয়া এবং অজ্ঞ্যান হয়ে যাওয়া •অ্যানাফাইলাক্সিসের ক্ষেত্রে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎস্যকের পরামর্শ নেয়া উচিত আসুন আমরা যেনে নেই এলার্জি প্রতিরোধ করার প্রাকৃতিক কিছু উপায় যেমন বাহিরের বাতাশ ধুকতে দেওয়া যাবেনাঃ বাতাশেও কিছু উপাদান থেকে থাকে যাহা থেকে অনুনাসিক অ্যালার্জি দেখা দিতে পারে, সেই কারনে আপনার বাড়ির অগ্নিকুণ্ডে বিশেষ এয়ার ফিল্টার এবং এয়ার কন্ডিশনার সিস্টেম ব্যাবহার করা যেতে পারে। এতে বাহিরের ৯০%-৯৫% কণা ভীতরে আসতে পারবেনা।     অ্যালার্জি ধুয়ে ফেলুনঃ প্রতিবার আমরা বাইরে থেকে আসি আমাদের শরীরের সাথে ছোট কণা নিয়ে আসি।অ্যালার্জি  থেকে রক্ষা পেতে আমাদের উচিৎ বাসায় এসে ভালো ভাবে গোসল করা আর আমাদের কাপড়চোপড় ও ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে ফেলা।আমাদের জুতাও বাড়ির বাইরে রাখতে পারি।   মাস্ক ব্যাবহার করুন বাহিরে চলাফেরা এবং পরিস্কার পরিছন্নের কাজ এর সময়ে বাতাসের অ্যালার্জি বস্তুগুলো প্রতিরোধ করতে মাস্ক ব্যাবহার করতে পারেন। প্রচুর তরল পানি খান অ্যালার্জি থেকে যদি আপনার নাক বন্ধ ভাব লাগে বা নাক থেকে পানি আসছে তাহলে প্রচুর পরিমান পানি, জুস বা তরল খাওয়া উচিৎ। অতিরিক্ত তরল পান আপনার শ্লেষ্মা পাতলা হতে সাহায্য করে এবং আপনাকে কিছু ত্রাণ দিতে পারে। গরম তরল - যেমন চা, জুস বা স্যুপ-এগুলা আপনাকে পরিত্রান দিতে পারে কেননা এতে বাষ্প আছে। রিফ্রেশিং কমলালেবুর পানি কমলালেবুর পানিতে প্রচুর পরিমান ভিটামিন সি থাকে যা বিভিন্ন অ্যালার্জি থেকে মুক্তি দিতে পারে। এই পানীয়টি তৈরি করতে আপনার লাগবেঃ -১/২ টি লেবু -২ টি কমলা -১ চামচ খাটি মধু প্রস্তুতপ্রনালি লেবু আর কমলা থেকে জুস বের করে নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ঠাণ্ডা করতে হবে। এরপর মধু আর কিছু বরফ কুচি মিশিয়ে প্রতিদিন পান করুন।     পেয়াজের রস পেয়াজে কুয়ারসেতিন নামক একটি জলে দ্রবণীয় রাসায়নিক যৌগ থাকে যা হিস্টামিনের পরিমান কমাতে প্রাকিতিক ভাবে সাহায্য করে। এর জন্য আপনার দরকার- -১ টি পেয়াজ -৪ কাপ পানি -স্বাদ আনতে খাটি মধু প্রস্তুতপ্রনালি পিয়াজ কুচি করে কেটে পানিতে মিশান। এই ভাবে ৮-১২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রেখে দিনে ১-২ বার পান করুন। এই ড্রিংক আপনি ৪ দিন পর্যন্ত ফ্রিজে রেখে পান করতে পারেন, আপনি চাইলে প্রতিবার এর সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।   পুষ্টিকর খাবার খাবেন দেখা যায় যেই বাচ্চারা ছোট থেকে বেশি করে শাকসব্জি, ফল বিশেষ করে আঙ্গুর, আপেল, কমলা আর টমেটো খায় তাদের এলার্জির সমস্যা কম হয়।   বাষ্প শ্বসন করুন এলার্জি থাকলে শ্বাসপ্রশ্বাস বিরাম করতে বাষ্প শ্বসন একটি সহজ উপায়।গরম পানির উপরে বসে মাথা গামছা দিয়ে ঢেকে নিন যেন কোন বাস্প বের না হতে পারে, এছারা আপনি গোসলখানাতে বসে গরম পানি ছেড়ে রাখতে পারেন যা থেকে বাস্প বের হতে থাকবে। এলার্জি থেকে মুক্তির জন্য দিনে কয়েকবার এই পদ্ধতি গ্রহন করুন। সিগারেট ধূমপান এবং ধোঁয়া থেকে বিরত থাকুন সিগারেট ধূমপান আপনার এলার্জির লক্ষণ সমুহ আরও জোরদার করতে পারে। এরোসল এস্প্রে এবং পোড়া কাঠ থেকে নির্গত ধোঁয়া থেকে নিরাপদে থাকুন কারন ইহা আপনার এলার্জির প্রবণতাকে তরান্বিত করে।   চিকিৎসা এছাড়াও বিভিন্ন অ্যালার্জী নিয়ন্ত্রণ করতে নিম্মলিখিত চিকিৎসাগুলো  গ্রহন করা যেতে পারে- •antihistamines  -  যখন আপনি অ্যালার্জি উপসর্গ লক্ষ্য করবেন তখন ইহা গ্রহন করতে পারেন, বা  অ্যালার্জী বস্তুর সম্মুক্ষিন হলে প্রতিক্রিয়া হওয়ার আগেই গ্রহন করতে পারেন। •decongestants  - ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, অনুনাসিক স্প্রে বা তরল বন্ধ নাকের জন্য একটি স্বল্প মেয়াদী চিকিৎসা হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে •লোশন এবং ক্রিম, যেমন  ময়শ্চারাইজিং ক্রিম (emollients)  - ইহা চামড়ার লালভাব এবং চুলকানি কমাতে পারে। •স্টেরয়েড ঔষধ  - স্প্রে, ড্রপ, ক্রীম, ইনহেলার এবং ট্যাবলেট ত্বকের এলার্জি  প্রতিক্রিয়া হতে সৃষ্ট ফোলা এবং লালভাব কমাতে সাহায্য  করতে পারে।