গরমে আপনার বাচ্চার সুরক্ষায়

গরমে আপনার বাচ্চার সুরক্ষায়

আপনার বাচ্চাকে যতটা সম্ভব শীতল রাখার চেষ্টা করুন এবং রোদ থেকে দূরে রাখুন। প্রচণ্ড গরমের সময় ছোটো বাচ্চারা বেশি অসুস্থ হয়ে যেতে পারে।

যেমন, তারা যেসব অসুস্থতায় ভুগতে পারে -

● পানিশূন্যতা ● গরমজনিত ক্লান্তি ● হিট স্ট্রোক ● রোদে পোড়া

আপনার শিশুকে গরমের সময় সুস্থ ও সবল রাখতে নিচের পরামর্শগুলো কাজে লাগাতে পারেন -

রোদ থেকে সুরক্ষা ● বাচ্চাকে যতটা সম্ভব রোদ থেকে দূরে রাখুন, বিশেষ করে ১১টা থেকে ৩টার মধ্যে, যখন সূর্যের তাপ সবচেয়ে প্রখর থাকে। যদি আপনাকে গরমের দিনে বের হতেই হয়, তাহলে বাচ্চার পুশ চেয়ারের মাথায় একটা শেড লাগিয়ে দিন, যাতে বাচ্চার গায়ে সরাসরি রোদ না পড়ে।

● আপনার বাচ্চার ত্বকে হাই ফ্যাক্টর সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। ছোটো বাচ্চাদের জন্য বিশেষ ফর্মুলার সানস্ক্রিন তৈরি করে অনেক কোম্পানি যেখানে সান প্রটেক্টিং ফ্যাক্টর বা এসপিএফ থাকে ৫০ বা তার বেশি। নিয়মিত সানস্ক্রিন লাগান, বিশেষ করে আপনার বাচ্চা যদি সমুদ্রে বা পুলের পানিতে নামে তা হলে তো বটেই।

● রোদ টুপি পরাতে পারেন বাচ্চাকে, বিশেষ করে যদি সেটার ধারটা বড় হয় আর পেছনে লম্বা ফ্ল্যাপ থাকে। তাহলে গরমে আপনার বাচ্চার মাথা আর ঘাড় সুরক্ষা পাবে।

পানিশূন্যতা পরিহার করুন ● প্রচুর পানি এবং পানীয় পান করুন যাতে আপনি এবং আপনার বাচ্চা পানিশূণ্যতায় না ভোগেন ।

● যদি আপনি বাচ্চাকে বুকের দুখ খাওয়ান তাহলে বুকের দুধের পাশাপাশি আলাদা পানি দেয়ার দরকার নেই। তবে বাচ্চা হয়তো স্বাভাবিক সময়ের চাইতে বেশি দুধ খেতে চাইতে পারে।

● আপনার বাচ্চা যদি ইতিমধ্যেই বোতলে দুধ খাওয়া শুরু করে থাকে তাহলে তাকে দুধের পাশাপাশি দিনের বিভিন্ন সময় ঠাণ্ডা ফুটানো পানিও দিতে পারেন। রাতে বাচ্চার ঘুম ভেঙ্গে গেলে সে হয়তো দুধের জন্য কাঁদতে পারে, কিন্তু যদি তাকে যথেষ্ট দুধ এর মধ্যেই খাইয়ে থাকেন তাহলে ফুটানো ঠাণ্ডা পানিই দিলেই হবে।

● আপনার বাচ্চা যাতে পানিশূন্য না হয়ে পড়ে সে জন্য বিভিন্ন উপায়ে তার পানির অভাব পূরণ করতে পারেন। বাচ্চার বয়স যদি ৬ মাসের বেশি হয়, এবং সে যদি বার বার পানি খেতে না চায়, তাহলে পানির সাথে অল্প পরিমাণ ফলের জুস মিশিয়ে দিতে পারেন। তাছাড়াও আইস কিউব, কিংবা বাসায় ফলের শরবত বানিয়ে সেটা জমিয়ে ললি বানিয়েও অল্প করে খাওয়াতে পারেন। যেসব বাচ্চা আরেকটু বড় তাদের পানিশূন্যতা রোধ করতে আস্ত ফল বা ফলের সালাদও দিতে পারেন।

বাচ্চাকে শীতল রাখুন

● বাচ্চাকে প্যাডলিং পুলে খেলতে দিতে পারেন, তাহলে বাচ্চার শরীর ঠাণ্ডা থাকবে। খেয়াল রাখবেন পুলটা যেন ছায়ায় থাকে, আর সারাক্ষণ চোখে চোখে তো রাখতেই হবে।

● ঘুমাতে যাওয়ার আগে গোসল করানো অনেক উপকার দেয়।

● শোবার ঘর ঠাণ্ডা রাখার জন্য ঘরের জানালায় ব্লাইন্ড বা পর্দা দিয়ে রাখুন। ঘরে বাতাস প্রবাহের জন্য ফ্যানও ব্যবহার করতে পারেন।

● রাতে যতটা সম্ভব হাল্কা কাপড় পরে ঘুমান। বিছানার চাদরও একদম নরম হলে ভালো। আপনার বাচ্চা যদি গরমের কারণে রাতে গায়ের চাদর ফেলে দেয়, তাহলে তাকে শুধু ডায়াপার বা কাঁথার ন্যপি পরিয়েই ঘুম পাড়ান।

● ঘরের তাপমাত্রা মাপতে নার্সারি থার্মোমিটার ব্যবহার করতে পারেন। ঘরের তাপমাত্রা ১৬° সেলসিয়াস ( ৬১° ফারেনহাইট) থেকে ২০° সেলসিয়াসের ( ৬৮° ফারেনহাইট) মধ্যে থাকলে বাচ্চা আরামে ঘুমাতে পারে।

● যদি আপনি যথেষ্ট স্বচ্ছল হন তাহলে ঘরে এসি লাগাতে পারেন। গরমে আপনার বাচ্চার আরামের জন্য এটা সবচেয়ে ভালো উপায় না হলেও যথেষ্ট উপকারী। তবে এসি’র তাপমাত্রা কখনোই ২৪ ডিগ্রির নিচে রাখবেন না। যদি সম্ভব হয় তবে একটা হিউমিডিফায়ার কিনে ফেলুন, কারণ সারাক্ষণ এসি চালু থাকার ফলে আপনার ঘরে বায়ু সঞ্চালনে সমস্যা হতে পারে এবং বাচ্চার ঠাণ্ডা লেগে যেতে পারে।