তীব্র তাপজনিত ক্লান্তি এবং হিটস্ট্রোক

তীব্র তাপজনিত ক্লান্তি এবং হিটস্ট্রোক তীব্র তাপজনিত ক্লান্তি (Heat Exhaustion) এবং হিট স্ট্রোক বা অতিরিক্ত গরমে অজ্ঞান হয়ে যাওয়া তাপ সম্পর্কিত দুটি স্বাস্থ্য সমস্যা। যদি খুব দ্রুত তাদের চিকিৎসা করা না হয় তবে উভয়েই খুব মারাত্নক হতে পারে। যখন আমাদের শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অর্থাৎ, ৩৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা ৯৮.৬ ডিগ্রী ফারেনহাইট থেকে বেড়ে গিয়ে ৪০ ডিগ্রী সেলসিয়াস বা ১০৪ ডিগ্রী ফারেনহাইট পর্যন্ত হয়ে যায় তখন তীব্র তাপজনিত ক্লান্তি হয়। এই তাপমাত্রায় আমাদের শরীরে পানি এবং লবনের মাত্রা কমে যেতে শুরু করে। তীব্র তাপজনিত ক্লান্তি’র উপসর্গ খুব দ্রুতই বেড়ে যেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে,

যদি তীব্র তাপজনিত ক্লান্তি তে আক্রান্ত ব্যক্তিকে ঠান্ডা জায়গায় দ্রুত নেওয়া হয়, পানি খেতে দেওয়া হয়, এবং অতিরিক্ত কাপড় খুলে ফেলা হয়, তাহলে তার আধা ঘন্টার মাঝে ভাল অনুভব করতে শুরু করা উচিত এবং কোন জটিলতা থাকা উচিত নয়।

কোন চিকিৎসা না করা হলে এসব ক্ষেত্রে হিট স্ট্রোক হয়ে যেতে পারে। হিটস্ট্রোক তীব্র তাপজনিত ক্লান্তি থেকে বেশী গুরুতর। যখন শরীর নিজেকে আর ঠান্ডা করতে পারেনা বরং অতিরিক্ত তাপ উৎপন্ন করতে থাকে তখন হিটস্ট্রোক ঘটে। যখন শরীরের কোর তাপমাত্রা 40°C বা  104°F এর উপরে উঠে যায় তখন আমাদের শরীরের কোষগুলো ভাংতে শুরু করে এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন অঙ্গ কাজ করা থামিয়ে দেয়। এর চিকিৎসা না করলে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে পড়ে, যেমন শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ নষ্ট হয়ে যায় এবং মস্তিষ্ক’র ক্ষতি হয়। কেউ কেউ হিটস্ট্রোকে মারাও যায়।

হিটস্ট্রোকের উপসর্গ হতে পারেঃ

শরীরের উচ্চ তাপমাত্রাঃ 40°C বা 104°F তাপমাত্রা কিংবা তার থেকেও বেশী তাপমাত্রা অনেক সময় হিটস্ট্রোকের একটি প্রধান উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়, যদিও এটা কম তাপমাত্রায়ও নির্ণয় করা যেতে পারে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে শারীরিক পরিশ্রমের সময় শরীরের তাপমাত্রা এমন বেড়ে যেতে পারে কোন রকম হিটস্ট্রোক বা তীব্র তাপজনিত ক্লান্তি ছাড়াই।

অতিরিক্ত তাপ যা হিটস্ট্রোক ঘটায় তা স্নায়ুতন্ত্রকেও আক্রমন করে। এর ফলে আরো কিছু লক্ষণ দেখা যায়ঃ

যা করতে হবে হিটস্ট্রোক একটি মেডিকেল ইমার্জেন্সি এবং এর চিকিৎসা করা উচিত খুব দ্রুত। যখন আপনি রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাবেন, তখন তাকে যেন যতটা সম্ভব ঠান্ডা পরিবেশে রাখা যায় তা নিশ্চিত করুন। চারপাশের তাপমাত্রা যতটা ঠান্ডা রাখা যায় চেষ্টা করুন, ফ্যানের সাহায্যে তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করলে ভালো হয়। পরনের কাপড় ঢিলা করে দিন এবং সে যেন যথেষ্ট বাতাস পায় তা দেখুন। তার শরীর ঠান্ডা কিছু দিয়ে ঢেকে দিন, যেমন ঠান্ডা ভেজা তোয়ালে কিংবা চাদর। তাকে স্বাভাবিক ঠান্ডা পানিতে চুবিয়েও রাখতে পারেন, তবে সেটা যেন অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি না হয়। জ্ঞান থাকলে তাকে পানি খেতে দিন, তবে অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি দিবেন না। তাদের ত্বকে হালকা করে মেসেজ করে দিন যাতে রক্ত সঞ্চালন ভাল করে হয়।

কারা ঝুকিপূর্ন? হিটস্ট্রোক যে কাউকে আক্রমন করতে পারে, কিন্তু কিছু মানুষ অন্যান্যদের তুলনায় বেশী ঝুকিপূর্ন থাকে এবং এদের ক্ষেত্রে গরম আবহাওয়ায় বিশেষ করে প্রচন্ড গরমের বা হিট ওয়েভের সময় অতিরিক্ত কিছু সতর্কতা গ্রহন করা প্রয়োজন। এরা হচ্ছে:

গরমের সময় তীব্র তাপজনিত ক্লান্তি এবং হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে কিছু পদক্ষেপ নিতে পারেন