এই গ্রীষ্মে নিজের যত্ন-পানিশূন্যতা

পানিশূন্যতা

ডিহাইড্রেশন অথবা পানিশূন্যতা গ্রীষ্মকালের একটি সাধারণ সমস্যা । ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যামের সাথে সাথে গরম দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে আর ঢাকা শহর ক্রমশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। দূর্ভাগ্যবশত, অফিস এবং স্কুল আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুসরন করেনা। তাই আপনাকেও ১৮ ডিগ্রি সে. এ নিয়ন্ত্রিত নিজের স্বস্তিকর পরিবেশ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হয় বিভিন্ন কাজের জন্য। স্কুলগামী বাচ্চারা প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে বেশী আক্রান্ত হয় কারণ তারা বড়দের তুলনায় যথেষ্ট কম পানি খায় না। পানিশূন্যতার উপসর্গ এবং জটিলতা নিয়ে প্রতিনিয়ত হাসপাতালে অনেক রোগী ভর্তি হচ্ছে ।

আমরা যে পরিমানে তরল/পানি গ্রহণ করি তার চেয়ে বেশি পরিমানে যখন তরল আমাদের শরীর থেকে বেরিয়ে যায় তখন পানিশূন্যতার সৃষ্টি হয়। পানি আমাদের প্রস্রাব, ঘাম এবং মলের সাথে বের হয়ে যায়। যখন অতিরিক্ত পানি বের হয়ে যায় তখন এটা দেহস্থ খনিজের ভারসাম্য নষ্ট করে ফেলে এবং শরীরের বিভিন্ন কাজে ব্যাঘাত ঘটায়।

পানিশূন্যতার উপসর্গ কি কি? পানিশূন্যতার প্রাথমিক উপসর্গ গুলো হচ্ছেঃ

এগুলো পানিশূন্যতার মধ্যম পর্যায়ের উপসর্গ, তবে যদি এটার চিকিৎসা না করা হয় তবে তা গুরুতর পানিশূন্যতার দিকে ধাবিত করতে পারে।

নিচে গুরুতর পানিশূন্যতার উপসর্গ তুলে ধরা হল

তীব্র পানিশূন্যতায় গুরুতর জটিলতা দেখাতে পারে এবং আপনার শরীরে রক্ত প্রবাহ একদম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এই অবস্থাকে বলা হয় শক। এই ক্ষেত্রে আপনাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে এবং সরাসরি দেহের শিরায় তরল প্রদানের মাধ্যমে দেহের পানির ঘটতি যথেষ্ট মাত্রায় পূরণ করতে হবে।

শিশুরা খুব সহজেই পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে, কারন তাদের শরীরে পানির পরিমাণ কম থাকে। কিন্তু পানির ঘাটতি পূরনের বেলায় প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে তারা দ্রুত সেরে উঠে।

শিশুদের পানিশূন্যতার উপসর্গ হল

***যদি আপনার অথবা আপনার বাচ্চার টানা ৫ দিনের বেশী ডায়ারিয়া চলতে থাকে অথবা যদি প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ২৪ ঘন্টার বেশী স্থায়ী এবং শিশুদের ক্ষেত্রে ১২ ঘন্টার বেশী বমি হতে থাকে, তবে আপনার চিকিৎসকের সাথে দ্রুত যোগাযোগ করুন।

মধ্যম থেকে সহনীয় পানিশুন্যতার জন্য বাসায় কি ব্যাবস্থা নিতে পারেন? সবচেয়ে ভাল উপায় হল প্রচুর পানি, পাতলা করা ফলের রস বা ননী-বিহীন দুধ এগুলো খেয়ে শরীরে পানির মাত্রা স্বাভাবিক করা। নবজাতক ও শিশুদের জন্য, ফলের রস পানির থেকে বেশী ভাল, যেহেতু পানি শরীরের খনিজ ঘনত্বকে আরো পাতলা করে দেয়। যদি শিশু বমি করতে থাকে, তবে তাদের অল্প পরিমানে ফলের রস বারবার দেওয়া ভাল। ওরস্যালাইন এই ক্ষেত্রে আরো ভাল। যেহেতু গ্লুকোজ জাতীয় পানীয়ে পর্যাপ্ত পরিমানে খনিজ থাকে।

কিভাবে পানিশুন্যতা প্রতিরোধ করতে হয়? পর্যাপ্ত পরিমানে পানি খান। বাংলাদেশের গরম ও আদ্র আবহাওয়ায় আমাদের প্রতিদিন ৮-১০ গ্লাস পানি পান করা উচিত। যদি আপনি গরম আবহাওয়ায় ব্যায়াম করেন তবে স্বাভাবাবিক সময়ের চেয়ে আরো ১ লিটার পানি বেশী খান। যদি আপনার বাচ্চা ডায়ারিয়া অথবা বমিতে ভুগে, তবে পানিশুন্যতায় আক্রান্ত হতে পারে। তাই শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া তরল যত দ্রুত সম্ভব পূরণ করতে হবে। আপনার শিশুর ডায়রিয়া হলে প্রতিবার টয়লেট এ যাবার পর তাকে কিছু ওরস্যালাইন দিন। তার যদি তীব্র বমি হয় এবং তাকে পান করতে দেয়া যেকোন কিছুই যদি বমি করে দেয়, তাহলে দ্রুত নিকটস্থ্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যান। ছোট শিশুরা দ্রুত শক-এ যাবার ঝুঁকিতে থাকে, তাই শক থেকে রক্ষা করার জন্য তার শিরায় তরল দেয়া জরুরী হতে পারে।

***মনে রাখবেন আপনার শরীর যা কাজে লাগাতে পারে তার চেয়ে বেশি মাত্রায় তরল গ্রহণ করলে আপনার রক্তে সোডিয়ামের পরিমান কমে যেতে পারে (হাইপোট্রামিয়া) এটি একটি বিপর্যয়কর অবস্থা এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণও হতে পারে। যদি আপনি অস্বস্তি অনুভব করেন এবং পানি পান করলে পেট ফেঁপে থাকে বলে মনে হয় তাহলে সুস্থ হয়ে উঠতে নিজেকে আপনার কিছু সময় দিতে হবে।

এই উল্লেখিত তথ্য শুধুমাত্র সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। এটি কোনো চিকিৎসা পরামর্শ নয়।