গরমকে জয় করুন!

গরমকে জয় করুন গরমে পুড়ে যাচ্ছেন? এই দাবদাহ সত্যি সহ্য করার মতো নয়। যেখানে আমরা গরমকাল বলতেই অপেক্ষা করি বাংলা নববর্ষ আর মজাদার ফলের জন্য, দেখা গেলো গ্রীষ্মকাল শুরুই হল ৪০° সেলসিয়াস গড় তাপমাত্রা নিয়ে! বিশেষ করে শহর এলাকায় তো এই গরম সহ্য করা খুবই কঠিন। কেননা অপরিকল্পিত নগরায়নের ফলে গাছপালা, জলাশয় কমে গিয়ে উঁচু দালানে ভরে গেছে, বায়ু সঞ্চালন বাধা পাচ্ছে আর ঘনবসতির কারণে অস্বস্তিরও সৃষ্টি হচ্ছে। গ্রাম এলাকায় প্রধান সমস্যা হচ্ছে বিদ্যুত সংযোগ আর পরিষ্কার খাবার পানির অভাব। এসব কারণেই মানুষ গরমে পানিশূন্যতা আর হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়। বিশেষ করে বাচ্চা আর বয়স্ক মানুষদের জন্য এই সময়টা খুব কষ্টকর। যেহেতু গরমে আপনাকে স্বাভাবিক জীবন-যাপন চালিয়ে যেতেই হবে তাই গরমকে মোকাবেলা করতে নিচের টিপসগুলো আপনার হয়তো কাজে লাগতে পারে - পানি! পানি! পানি ! এই গরমে যেভাবে শরীরে পানি কিংবা পানীয়ের চাহিদা তৈরি হয় তার কোন তুলনা নেই। সবসময় সাথে এক বোতল পানি রাখুন। পরিবেশবান্ধব আর সচেতন হবার তাগিদেই প্লাস্টিক বোতলের বদলে কাচের বোতল ব্যবহার করুন। অনেকেই শুধু পানি পছন্দ করেন না (হ্যাঁ, এরকম মানুষও আছে!)! তারা যা করতে পারেন -

রোদকে আটকান ভিটামিন ডি-’র জন্য প্রতিদিনই কিছুটা রোদের তাপ প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই কাঠাফাটা রোদ আপনার ত্বককে পুড়িয়ে দিতে পারে। বাচ্চাদের ত্বক যেহেতু নরম, তাদের ত্বক আরও বেশি পোড়ে। বিভিন্ন ব্র্যান্ড এবং দামের সানব্লক বাজারে পাওয়া যায়। বাইরের বের হবার আগে অবশ্যই সানস্ক্রিন লাগিয়ে নিবেন। বাচ্চাদের জন্য একটু দাম দিয়ে হলেও ভালো সানস্ক্রিন কিনুন। যদি আপনার সানস্ক্রিন লাগাতে ভালো না লাগে, তাহলে সাথে ছোট ছাতা রাখুন। নিজেকে ছায়ার মধ্যে রাখা হচ্ছে রোদের এই খর তাপ থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো উপায়। যদি আপনার বা পরিবারের কারো সারাদিন বাইরে কাজ করে এসে রোদে পোড়ার মতো অনুভূতি হয়, তাহলে অ্যালোভেরার রস লাগান। অ্যালোভেরা সহজেই বাজারে খুঁজে পাওয়া যায়। এর গাঁট্টাগোট্টা পাতা ভেঙ্গে রস বের করে নিন। যেসব অংশ রোদে বেশি পুড়েছে সেখানে দ্রুত এই রস লাগান, তাতে করে পোড়া ভাব তাড়াতাড়ি ঠিক হয়ে যাবে।

ভেতরে বাইরে দু’ভাবেই ঠাণ্ডা থাকুন আমরা গরম কতটা সহ্য করতে পারবো সেটা আমাদের খাবারের ওপরও অনেকটা নির্ভর করে। কিছু ‘ঠাণ্ডা’ খাবার আছে যা আপনার হজম প্রক্রিয়াকে সাহায্য করে। চর্বিযুক্ত খাবার বরাবরই না খাওয়া ভালো, আর গরমের সময় তো একদমই নয়। যতটা সম্ভব ফল আর সবজী খান, তার মধ্যে তরমুজ, শসা আর আনারস অবশ্যই রাখবেন। এই গরমে ডাবের পানি বিশেষ উপকারী কারণ এতে ভাল মাত্রায় ইলেক্ট্রোলাইট থাকে। লেবু- পানি অথবা চিনি ছাড়া লেবুর শরবতও এ সময়ের জন্য অনেক উপকারী। তবে খেয়াল রাখবেন, চিনি দিয়ে খেলে যেন বেশি বেশি না খাওয়া হয়ে যায়। বাংলাদেশের চিড়া খই এর মতো ঐতিহ্যবাহী খাবারও গরমে শরীর ঠাণ্ডা রাখে। এর সাথে একটু ঘরে তৈরি টক বা মিষ্টি দই দিয়ে নিন, সারাদিনের জন্য আপনি সতেজ হয়ে যাবেন।

যতটা সম্ভব সুতি কাপড় পরা আর ঘরের ভেতর থাকা আপনাকে এই তাপ প্রবাহ থেকে আরাম দিতে পারে। কিন্তু মায়া এটাও বোঝে যে আমাদের দেশের শ্রমসসাধ্য কাজের ধারায় রোদ থেকে গা বাঁচিয়ে থকাটা বিলাসিতার মত। অনেক মুদি দোকানেই বাচ্চা, পথচারী ও রিকশাওয়ালাদের জন্য বিনামূল্যে পানি খাওয়ার জন্য গ্যালন রাখা থাকে। হয়তো মায়া কম্যুনিটি সদস্যরাও এরকম মহতী কাজের উদ্যোগ নিতে পারে। কাজটা যে খুব বড় কিছু হতেহবে তাও নয়। আপনার বাড়ির গেটের সামনে একটা ছোটো কলসিই রাখতে পারেন, কারণ কলসির পানিপ্রাকৃতিকভাবেই ঠাণ্ডা থাকে এবং এতে আপনার কোনো বিদ্যুৎ খরচও নেই। এতে রাস্তার দুঃস্থ লোকেদের যেমন উপকার হবে, তেমনি এই কাজের মাধ্যমে ছোটোরাও দানশীলতা শিখবে।

যে সময়টায় আমরা প্রথম কালবৈশাখী ঝড়ের জন্য অপেক্ষা করছি, তখন বরং ভাগ্যপীড়িতদের কথা ভাবুন। তাদের এই কাঠাফাটা রোদ আর খরতাপ থেকে কীভাবে সুরক্ষিত করা যায় সে জন্য প্রয়োজনীয় কাজটি করতে এগিয়ে যান।