আপনার যদি হাঁপানি থাকে

আপনার যদি হাঁপানি থাকে শ্বাসযন্ত্রের যে সকল চিকন নালীর মাধ্যমে বাতাস ফুসফুস থেকে আসে এবং বের হয়ে যায় , তাদের আক্রান্ত অবস্থার নামই হাঁপানি (asthma) । হাঁপানি (asthma) হলে এই সব চিকন নালী গুলো সংবেদনশীল হয়ে যাওয়াও খুব সহজেই ফুলে যায় ও খসখসে হয়ে যাও। ফলে এই চিকন নালী গুলো আরও বেশি চিকন হয়ে যায় এবং কফ ও শ্লেষার পরিমান বৃদ্ধি পায়। এই অবস্থায় ফুসফুসে বাতাস ঢোকা ও ফুসফুস থেকে বাতাস বের হওয়া খুব কষ্টকর হয়ে পড়ে, ফলে শ্বাস নেবার সময় বুকের ভেতর শোঁশোঁ আওয়াজ, কাশি, বুকে চাপ ইত্যাদি উপসর্গ অনুভূত হতে পারে। গর্ভাবস্থায় হাঁপানির (asthma) তীব্রতা অনেক বেশি বা কম হতে পারে। গর্ভাবস্থা কিভাবে হাপানির ওপর প্রভাব ফেলেঃ আপনার যদি আগে থেকে হাঁপানি (asthma) না থেকে থাকে তবে গর্ভাবস্থার কারনে এটি হবার সম্ভাবনা খুব কম। কিন্তু যাদের আগে থেকেই হাঁপানি (asthma) আছে গর্ভাবস্থায় তাদের হাঁপানির অবস্থা কেমন হবে তা অনুমান করা সম্ভব নয়। গর্ভাবস্থাতে সাধারনতঃ এক তৃতীয়াংশ মহিলার হাঁপানির অবস্থার উন্নতি হতে পারে, এক তৃতীয়াংশ মহিলার হাঁপানি অপরিবর্তিত থাকতে পারে, আবার এক তৃতীয়াংশ মহিলার হাঁপানির অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে। গর্ভাবস্থায় হাঁপানি নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারলে আপনি সুস্থ থাকবেন। যখনই আপনি বুঝতে পারবেন যে আপনি গর্ভবতী তখনই দেরি না করে আপনি আপনার চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করে কিভাবে হাঁপানি নিয়ন্ত্রনে রাখবেন সে বিষয়ে পরামর্শ করে নিন। গর্ভাবস্থা ও হাঁপানির চিকিৎসাঃ গর্ভাবস্থায় আপনার হাঁপানির চিকিৎসা আগের মত চালিয়ে যেতে হবে। আপনার হাঁপানির অবস্থা অবনতি না হলে আপনি আপনার আগের ওষুধ অপরিবর্তিত রাখতে পারেন। যদি আপনি হাঁপানির চিকিৎসা বন্ধ করে দেন এবং এতে যদি আপনার হাঁপানির অবস্থার অবনতি ঘটে, তাহলে আপনার স্বাস্থ্য যেমন ঝুকির মুখে পড়বে তেমনি আপনার গর্ভস্থ সন্তানের ওজন কমে যাওয়ার সম্ভাবনাও বেড়ে যাবে। গর্ভাবস্থায় আপনার সেবিকা আপনার গর্ভাবস্থার খেয়াল রাখবে এবং আপনার ডাক্তার অথবা ক্লিনিক আপনার হাঁপানির দিকে লক্ষ্য রাখবে। আপনার হাঁপানির অবস্থার অবনতি ঘটলে তারা আপনাকে যথাযথ ভাবে রেফার করবেন। এমন কি যখন আপনি আপনার বাচ্চা কে বুকের দুধ খাওয়াবেন তখন ও আপনি যে কোন ধরনের হাঁপানির চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারবেন। আপনার সদ্যজাত সন্তানের যত্ন নেবার পাশাপাশি আপনার নিজের শরীর এর যত্ন নিয়ে হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে রাখাটাও আপনার জন্য জরুরি। নিচের লক্ষন গুলো দেখা দিলে বুঝতে হবে যে আপনার হাঁপানির অবস্থার অবনতি ঘটছে। ১। রাতে অথবা ভোরে  অথবা শরীরচর্চা করার সময় যদি আপনার কাশির অবনতি ঘটে, ২। শ্বাস নেবার সময় যদি বুকের ভেতর শোঁশোঁ আওয়াজ হয়, ৩। শ্বাসকষ্ট হলে, ৪। বুকে চাপ অনুভূত হলে। গর্ভাবস্থায় আপনার অ্যাসিড রিফ্লাক্স (অম্ল প্রতিপ্রবাহ) এ ভোগার সম্ভাবনা অনেক বেশি। গর্ভাবস্থায় অ্যাসিড রিফ্লাক্স এর কারনে পাকস্থলির অম্ল/অ্যাসিড খাদ্যনালীতে উঠে আসে এবং হাঁপানির অবস্থার অবনতি ঘটায়। গর্ভাবস্থায় আপনার যদি এই সব লক্ষন দেখা দেয় তাহলে চিকিৎসার জন্য আপনার ডাক্তার অথবা হাঁপানি বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করবেন। গর্ভাবস্থায় হাঁপানির ব্যবস্থাপত্রঃ আপনার যদি আগে থেকেই হাঁপানি থেকে থাকে, তাহলে আপনার একটি নিজস্ব চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র থাকার কথা, যেটা অনুসরন করে আপনি আপনার নিজের প্রয়োজন মত নিজের ঔষধের পরিবর্তন আনতে পারেন। উদাহরন স্বরূপ, আপনার যদি কাশি হয় অথবা ঠাণ্ডা লাগে, তাহলে আপনার হাঁপানির অবস্থার অবনতি ঘটতে পারে; এমতাবস্থায় আপনি আপনার preventer বা নিবারক (শ্বাসের সাথে নেবার স্টেরয়েড) এর পরিমান বাড়িয়ে দিতে পারেন অথবা পূর্বে যদি আপনি এই ওষুধ নিয়মিত ব্যবহার না করে থাকেন তাহলে তখন নিয়মিত ব্যবহার করা আরম্ভ করতে পারেন। গর্ভাবস্থায় এই ওষুধ সম্পূর্ণ নিরাপদ। গর্ভাবস্থায় আপনি আপনার স্বাভাবিক কাজ ও শরীরচর্চা চালিয়ে যেতে পারেবেন। কিছু পন্থা অবলম্বন করে আপনি আপনার হাঁপানির অবস্থার অবনতি ঠেকিয়ে রাখতে পারবেন। ১। ধূমপান পরিহার করবেন (গর্ভাবস্থায় ধূমপান পরিহারের কিছু উপায় জেনে নেবেন) ২। আপনার অ্যালার্জির উদ্রেক করতে পারে এমন বস্তু, যেমন পোষা প্রাণীর লোম থেকে দূরে থাকবেন।    hay fever হলে antihistamin  খাবেন- আপনার ডাক্তার অথবা ফার্মাসিস্ট এর সাথে যোগাযোগ করবেন। ৩। কোন antihistamin গর্ভাবস্থা য় নিরাপদ সেটা জেনে নেবেন। ৪। hay fever এর উদ্রেক করে এমন কাজ থেকে দূরে থাকবেন; যেমন লন এর ঘাস নিড়ানো।