জরায়ুর বাইরে গর্ভসঞ্চার (এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি)

জরায়ুর বাইরে গর্ভসঞ্চার (এক্টোপিক প্রেগন্যান্সি) স্বাভাবিক অবস্থায় নিষিক্ত ডিম্বানুটি ডিম্বনালী থেকে নেমে গর্ভে স্থানান্তরিত হয়। তবে মাঝে মাঝে এটি ডিম্বনালীতেই আটকে যায় এবং সেখানে বাড়তে থাকে। একে জরায়ুর বাইরে গর্ভসঞ্চার বা নালীস্থ (tubal) গর্ভসঞ্চার বলে।

খুব বিরল হলেও জরায়ুর বাইরে আরো কিছু স্থানে যেমন, ডিম্বাশয় বা জরায়ু মুখেও নিষিক্ত ডিম্বানু প্রোথিত হতে পারে। এ অবস্থায় নিষিক্ত ডিম্বানুটি ঠিকভাবে বাড়তে পারে না এবং গর্ভবস্থা বহাল থাকলে আপনার স্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অস্ত্রোপচার বা ওষুধের মাধ্যমে ডিম্বানুটি অবশ্যই সরিয়ে ফেলতে হবে।

সাধারণত প্রদাহ বা অন্য কারণে ডিম্বনালী আগে থেকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে থাকলে জরায়ুর বাইরে গর্ভসঞ্চার হতে পারে। আগে জরায়ুর বাইরে গর্ভসঞ্চার বা তলপেটে অস্ত্রোপচারের ইতিহাস থাকলে এই ঝুঁকি বেড়ে যায়। মাসিক বাদ যাবার পরপরই জরায়ুর বাইরে গর্ভসঞ্চারের লক্ষনগুলো দেখা দিতে থাকে। যেমন

এসব লক্ষণ দেখলে এবং গর্ভসঞ্চারের সম্ভাবনা থাকলে দ্রুত ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন, এমনকি যদি গর্ভ নিরূপণ পরীক্ষা (pregnancy test) ‘না সুচক’ হয়, তবুও।

কারো কারো বেলায় জরায়ুর বাইরে গর্ভসঞ্চারের লক্ষন ততটা স্পষ্ট নাও হতে পারে। আর কারো কারো বেলায় এটিকে ইরিটেবল বাউল সিণ্ড্রোম (irritable bowel syndrome) বা খাদ্যে বিষক্রিয়া বা এপেণ্ডিসাইটিসের (appendicitis) লক্ষনের সাথে গুলিয়ে ফেলার সম্ভবনা থাকে।

পরবর্তি অবস্থা জরায়ুর বাইরে গর্ভসঞ্চারের বিষয়টি অবসানের পর, গর্ভ হারানোর বেদনা খুব তীব্র হয়ে দেখা দিতে পারে, ফলে শোক কাটিয়ে ওঠার জন্য নিজেকে যথেষ্ট সময় দিন। জরায়ুর বাইরে গর্ভসঞ্চারের চিকিৎসায় অন্ত্রে অস্ত্রোপচার বা শক্তিশালী ওষুধ প্রয়োগ করা হয় এবং যার প্রভাব আপনার ভবিষ্যত গর্ভধারণেও পড়তে পারে।

সমস্যার কারণ এবং পরবর্তিতে আপনার গর্ভধারণে কোন সমস্যা হতে পারে কিনা সেটা জানতে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।