পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোমের সাথে জড়িত ত্বকের সমস্যা

পলিসিস্টিক ওভারিয়ান সিন্ড্রোমের সাথে জড়িত ত্বকের সমস্যা

১. তৈলাক্ত ত্বক ও ব্রণ পিসিওএসে আক্রান্ত নারীদের শরীরে ‘পুরুষ’ ও ‘মহিলা’ হরমোনের ভারসাম্যহীনতার কারণে ‘পুরুষ হরমোন’ (অ্যান্ড্রোজেন) প্রয়োজনের চেয়ে অধিক পরিমাণে উৎপাদিত হয়। ব্রনের মতো বড়, গভীর সিস্ট (তরল ভর্তি থলে) সৃষ্টি হয়, যা বিশেষ করে চোয়াল ও চিবুকে দখা দেয়। এগুলো গলে গেলে দাগ থেকে যায়, যা পিসিওসের সমস্যার একটি চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য।

২. অযাচিত লোম গজানো নারীদের শরীরে ‘পুরুষ হরমোন’ বেড়ে যাওয়ার ফলাফল হচ্ছে অবাঞ্ছিত লোম গজানো। টেস্টোস্টেরণের মতো ‘পুরুষ হরমোন’-এর কারণে মুখ, শরীর ও শ্রোনীচক্রে অবাঞ্ছিত লোম জন্মায়। এই কারণে, পিসিওএসে আক্রান্ত নারীদের ক্ষেত্রে মাথার চুল পাতলা হয়ে যায় এবং শরীরের লোম অত্যাধিক পরিমাণে বেড়ে যায়। আক্রান্তরা এই কারণে লজ্জাবোধ করেন এবং অনেকে নিয়মিতভাবে লোম শেভ (কামানো) করে, ওয়াক্সিং এবং ক্রীম ব্যবহার করেও এর থেকে মুক্তি না পেয়ে হতাশাতে থাকেন। শরীরের ভিতরকার হরমোনের ভারসাম্যহীনতা যে এ সমস্যার জন্য দায়ী তা তারা বুঝতে পারেন না। অবাঞ্ছিত চুল অপসারণের সর্বোত্তম পদ্ধতি হলো লেজার দ্বারা অপসারণ। যদিও এ পদ্ধতি এখনো অনেক ব্যয়বহুল, তবে তা একইসাথে সবচেয়ে কার্যকর ও ফলপ্রসূ পদ্ধতি।

৩. চুল পড়ে যাওয়া বা হ্রাস পাওয়া পুরুষ সেক্স হরমোন বা অ্যান্ড্রোজেনের কারণে শরীরে অতিরিক্ত লোম বৃদ্ধি পায়, অপরদিকে এর কারণে মাথার চুল পাতলা হয়ে পড়ে ও কমে যায়, যা ‘মেইল প্যাটার্ন ব্যাল্ডনেস’ নামে পরিচিত। পুরুষ সেক্স হরমোন বেশি থাকার কারনে এই সমস্যা পিসিওএস আক্রান্ত মহিলাদের মধ্যেও দেখা যায়। বেশিভাগ ক্ষেত্রে তারা শরীরের লোম বৃদ্ধির জন্য অভিযোগ না করে বরং তারা মাথার চুল হ্রাসের জন্য প্রতিনিয়ত অনুযোগ করতে থাকেন। মিনোক্সিডিল প্রভৃতি ঔষধ দ্বারা বর্তমানে এ সমস্যার সমাধান ফলপ্রসূভাবে করা যায়।

৪. কালো ত্বক পিসিওএসের কারণে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ত্বকের রঙ পরিবর্তন হয়ে যায়, যাকে ডাক্তারি ভাষায় ‘অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকান্‌স’ বলা হয়। এর ফলে ত্বকের বিভিন্ন স্থানে ছোপ ছোপ মসৃণ কালো দাগ দেখা যায়, যা বগল, ঘাড়, উরুর ভিতরের অংশ ও স্তনের নীচে সবচেয়ে বেশি পরিলক্ষিত হয়। ডায়াবেটিস অথবা নির্দিষ্ট কিছু ঔষধ গ্রহণের কারনেও এমনটা হতে পারে। তাই যদি আপনি মনে করেন যে আপনি অ্যাকান্থোসিস নিগ্রিকান্‌স-এ আক্রান্ত, তাহলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন। বিভিন্ন ধরণের ঔষধ গ্রহণের মাধ্যমে ত্বকের দাগ সফল ভাবে দূর করা যায়।