যৌনবাহিত সংক্রমণের বা STI-এর যেসব লক্ষণ পরীক্ষা করা প্রয়োজন

STI বলতে শুধুমাত্র এইচআইভি/এইডস বোঝায় না। এটি একটি সাধারণ ফাঙ্গাল অথবা ব্যাকটেরিয়া জনিত সংক্রমণও হতে পারে যা সঙ্গীর কাছ থেকে প্রাপ্ত অথবা সঙ্গীর মধ্যে বিস্তৃত হতে পারে। যদি আপনি যৌনবাহিত সংক্রমণ বা রোগে (STI) আক্রান্ত হয়েছেন বলে ধারণা করে থাকেন, তাহলে আতংকিত হবেন না। আপনাকে কেবলমাত্র কয়েকটি পরীক্ষা করাতে হবে এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা প্রদান করা হবে। এসটিআই-এ আক্রান্ত অনেক ব্যক্তির মধ্যে কোন লক্ষণ প্রকাশিত হয় না, তাই সুস্থ অনুভব করলেও পরীক্ষা করানো গুরুত্বপূর্ণ। যোনিপথে সহবাস, অ্যানাল ও ওরাল সেক্স প্রভৃতি যৌন সংসর্গেরর মাধ্যমে STI একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ে। অধিকাংশ STI অ্যান্টিবায়োটিক দ্বারা নিরাময় করা যায়। কয়েকটি STI, যেমন এইচআইভি-এর কোনো চিকিৎসা থাকে না তবে রোগের বৃদ্ধি প্রতিহত করার জন্য চিকিৎসা প্রদান করা হয়। কোনো ব্যক্তি বা আপনি নিজেই STI-এ আক্রান্ত কিনা তা শুধুমাত্র চেহারা দেখে বলা সম্ভব নয়, তাই অনিরাপদ যৌন সম্পর্ক করে থাকলে STI-এ সংক্রমিত হয়েছেন কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা জরুরী। লক্ষণসমূহ STI-এ আক্রান্ত অনেক ব্যক্তির কাছেই এর লক্ষণসমূহ দৃষ্টিগোচর হয় না, একই বিষয় ক্ল্যামিডিয়াতে আক্রান্ত অধিকাংশ নারীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। যদি চিকিৎসা করানো না হয়, তাহলে ক্ল্যামিডিয়া গর্ভধারণ সক্ষমতায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে। গনোরিয়াতে আক্রান্ত প্রায় ৫০% নারী ও ১০% পুরুষদের মধ্যে কোন উপসর্গ প্রকাশিত হয় না। নিম্নোক্ত লক্ষণসমূহের একটিও যদি আপনি অনুভব করে থাকেন, তাহলে পরীক্ষা করান। নারী ও পুরুষ উভয়ের ক্ষেত্রে এ লক্ষণসমূহ দেখা যায়ঃ প্রস্রাব ত্যাগের সময় ব্যাথা অনুভব করা যৌনাঙ্গে চুলকানো, জ্বলা ও তীব্র যন্ত্রণা বোধ হওয়া যৌনাঙ্গ অথবা পায়ুতে ফোসকা, ঘা, দাগ বা পিন্ড হয়ে থাকা অন্তর্বাসে কালো গুড়া বা অতি ক্ষুদ্র সাদা বিন্দু দেখতে পাওয়া (এগুলো শ্রোণীচক্রের উকুনের বিষ্ঠা বা ডিম হতে পারে) নারীর ক্ষেত্রেঃ হলুদ বা সবুজ যোনি স্রাব দুর্গন্ধযুক্ত স্রাব দুইবার মাসিক হওয়ার মাঝখানের সময়টাতে ও যৌন সহবাসের পর রক্তপাত হওয়া যৌন সহবাসের সময় ব্যাথা অনুভব হওয়া তলপেটে ব্যাথা হওয়া পুরুষদের ক্ষেত্রেঃ পুরুষাঙ্গ থেকে স্রাব নির্গত হওয়া মূত্রনালীতে (যে টিউব বা নলের মাধ্যমে প্রস্রাব বেরিয়ে আসে) জ্বালা করা উক্ত লক্ষণগুলো দেখা দেয়া মানে এই নয় যে আপনি কোন STI-এ আক্রান্ত, তবে এই লক্ষণগুলো কেন দেখা দিচ্ছে তার কারণ জানা ও চিকিৎসা গ্রহণের জন্য ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া গুরুত্বপূর্ণ। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, যৌন সহবাস ছাড়াই ঘা বা ক্ষতের সৃষ্টি হতে পারে, কিন্তু তা STI-এর লক্ষণসমূহের মতো হতে পারে, যেমন ব্যাথা, চুলকানি বা স্রাব হওয়া। চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে ক্ষত সহজেই নিরাময় করা যায়। STI কোথায় পরীক্ষা করানো যায়? STI পরীক্ষা করানোর জন্য নিম্নলিখিত জায়গায় যেতে পারেনঃ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ একজন ত্বক এবং যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ ইউরোলোজিস্ট কিছু কমিউনিটি গর্ভনিরোধক ক্লিনিক মায়া আপা কী বলে নিরাপদ যৌন সহবাস করুন STI-এ আক্রান্ত হওয়া বা এটি ছড়িয়ে পড়া থেকে নিজেকে রক্ষা করতে সবসময় কনডম ব্যবহার করুন। যদি আপনি সাধারণ ফাঙ্গাল (ছত্রাক) সংক্রমণে সংক্রমিত হয়ে থাকেন, যা নারীদের মধ্যে প্রায়ই হতে দেখা যায়, তাহলে এই সংক্রমণ আপনার মাধ্যমে আপনার সঙ্গীর মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে। কনডম ব্যবহারের মাধ্যমে নিজেকে সংক্রমণ ও গর্ভধারণ থেকে রক্ষা করা যায়।